রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসকের হুশিয়ারী

ইনানী রিপোর্ট ॥
সরকার বিরোধী জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধে কারণে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা অন্তিম শয়ানে। পর্যটন খাতকে চাঙা করতে সকল ধরণের পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অবরোধে সকল ধরণের পরিবহন নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ প্রশাসনের সকল যন্ত্র নিয়োজিত থাকবে। স্কট দিয়ে দূর পাল্লার গাড়ী গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। অবরোধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলোর ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন এমন মন্তব্য করেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি আরো বলেন, সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা ঘটলেও দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কক্সবাজারের রাজনৈতিক পরিবেশ অনেকটা শান্ত রয়েছে। শান্ত পরিবেশ আগামীতে যে কোন মূল্যে স্তিতিশীল রাখা হবে। এ জন্য সকল বিভাগের সমন্বয়ে কমিটি হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভুমিকা রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের জানমাল ও পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নাশকতাকারীদের গুলি ছুঁড়তে পারে। এটি আইনে স্বীকৃত। শান্তিভঙ্গ ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশের হাতে সরকারের দেয়া অস্ত্র প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। এটি কোন বিষয়ই না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন আরো কঠোর ভুমিকা রাখবে। বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানসহ সকল বেসরকারী বিমান, আবাসিক হোটেল, ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান ও বাসভাড়া কমানোর আহবান করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে পর্যটন নগরীর আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পরিকল্পনা নেয়ার আহবান জানান। এ সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেড জাফর আলমকে আহবায়ক করে ‘আপদকালীন বিশেষ কমিটি’ গঠনের কথা জানান জেলা প্রশাসক।
বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খালিকুজ্জামান বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি থেকে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবেনা। জনগণ থেকে নিরাপত্তাভীতি দূর করতে হবে। পর্যটন নগরী হিসাবে কক্সবাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সকলের আন্তরিকতা থাকা চায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পক্ষ সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৮ জানুয়ারী থেকে ১৩ জানুয়ারী পর্যন্ত ৩০৬টি বাস কক্সবাজার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে গেলেও কক্সবাজারে ঢুকেছে মাত্র ৪৩টি। প্রতিদিন গাড়ী ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কক্সবাজারে আসতে চাচ্ছেনা পর্যটকেরা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের পেঠে ভাত জুটবেনা। এ জন্য বাস মালিক-শ্রমিকরা তাদের জীবন জীবিকার নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।
এ দিকে মতবিনিময় সভায় চলমান অবরোধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও আগামীতে তা কঠোর হস্তে দমনের কথা জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজ নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সর্বশ্রেনী পেশার মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়। একই সাথে অবরোধ সময়কালে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, অন্যান্য এলাকার তুলনায় কক্সবাজারের পরিস্থিতি অনেকা ভাল। প্রতিদিন ২৫-৩০টি গাড়ী স্কট দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো হচ্ছে। চিহ্নিত পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘন্টা পুলিশী টহল জোরদার করাসহ নাশকতাকারীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশে জনবল সঙ্কটের কারণে অনেক সময় নাশকতা কারীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কঠোর অবস্থানের পরও প্রতিদিন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। গাড়ী ভাঙচুর হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীও দরকার। তাহলে কক্সবাজারের পরিবেশ শান্ত রাখা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিশেষ তালিকা করে গ্রেফতারেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবী তুলা হয়, অবরোধের নামে নাশকতাকারীদের ধরতে বিশেষ তালিকা করে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভাঙচুর হওয়ার সাথে সাথে গুলির আদেশ দরকার। তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় খরচ কমবে। বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বলতার কথাও ওঠে আসে। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেড জাফর আলম, পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, গোয়েন্দা বিভাগ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজনসহ বিভিন্ন দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।